সংগঠনগুলির দাবি, মার্কিন সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে ফুটবলপ্রেমী দর্শক, খেলোয়াড়, সাংবাদিক এবং অন্যান্য ভ্রমণকারীরা নানা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে সীমান্তে জিজ্ঞাসাবাদ, ভিসা জটিলতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কড়াকড়ি—এই সব বিষয়ই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
এই সতর্কবার্তায় সরাসরি সমালোচনা করা হয়েছে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রশাসনের অভিবাসন নীতিকে, যাকে “মানবাধিকার বিরোধী কর্মসূচি” হিসেবে বর্ণনা করেছে সংগঠনগুলি। তাদের মতে, এই নীতিগুলির প্রভাব এখনও আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের উপর পড়তে পারে, বিশেষ করে বড় ক্রীড়া ইভেন্টের সময়।
Advertisement
মানবাধিকার সংগঠনগুলির জোট ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA-র কাছেও আবেদন জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ফিফার সভাপতি Gianni Infantino-র উচিত মার্কিন সরকারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নিশ্চিত করা যে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগত সব দর্শনার্থীর নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে ACLU-র মানবাধিকার কর্মসূচির পরিচালক জামিল ডাকওয়ার কড়া ভাষায় বলেন, “ফিফা যদি শুধুমাত্র রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার দিকে মনোযোগ দেয়, তবে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।” তার মতে, মানবাধিকারের প্রশ্নে ফিফার আরও সক্রিয় ও দৃঢ় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী দেশ ও দর্শকদের জন্য নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে এই বিশ্বকাপ আয়োজন করছে, ফলে একাধিক দেশের মধ্যে সমন্বয়ও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হওয়ার আগেই এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, ফিফা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলি এই উদ্বেগ মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেয় এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।