এই ঘোষণার একদিন আগেই ভেন্যুটিতে আয়োজিত হয় একটি জাঁকজমকপূর্ণ ‘গ্রাউন্ড ব্রেকিং সেরেমনি’, যা কার্যত এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ক্রিকেটমহল।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত এই ভেন্যুকে “এলএ-২৮ ক্রিকেটের আসল ঠিকানা” বলে উল্লেখ করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান Jay Shah এবং বলিউড সুপারস্টার Shah Rukh Khan। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে—অলিম্পিকে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের প্রসারের এক ঐতিহাসিক সুযোগ।
Advertisement
উল্লেখ্য, এই স্টেডিয়ামটি আগেই Los Angeles Knight Riders-এর হোম গ্রাউন্ড হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল। মেজর লিগ ক্রিকেট (MLC)-এর আসন্ন মৌসুমে এখানে অন্তত সাতটি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে অবকাঠামোগত দিক থেকেও মাঠটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৮ অলিম্পিকে পুরুষ ও মহিলা—দুই বিভাগেই ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা হবে এই ভেন্যুতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা নেবে। এতদিন বেসবল-প্রধান দেশে ক্রিকেটের জন্য একটি স্থায়ী ও আধুনিক মঞ্চ তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগ ও দর্শক আগ্রহ বাড়বে বলেই আশা।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, “ক্রিকেট বিশ্বব্যাপী নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিচ্ছে। অলিম্পিকের অংশ হওয়া আমাদের কাছে গর্বের, একই সঙ্গে এটি একটি দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের প্রসারে এই ভেন্যু ঐতিহাসিক ভূমিকা নেবে।”
সব মিলিয়ে, ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটের এই ভেন্যু চূড়ান্ত হওয়ার ফলে খেলার বিশ্বায়নের পথে আরও একধাপ এগোল আইসিসি। এখন দেখার, অলিম্পিক মঞ্চে ক্রিকেট কতটা নতুন দর্শক ও বাজার দখল করতে পারে।