Ayushman Bharat West Bengal
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অবশেষে চালু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প Ayushman Bharat। মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari তাঁর সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালুর (Ayushman Bharat West Bengal) এই সিদ্ধান্তকে “বড় নীতি পরিবর্তন” বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নবান্নে সোমবার অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সরকার জানায়, এবার থেকে বাংলার পরিবারগুলিও বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবে। শুধু তাই নয়, ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকার টপ-আপ সুবিধাও থাকবে।
আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (PM-JAY) ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছিল। এটি বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম বলে দাবি করা হয়। এতদিন পশ্চিমবঙ্গ এই প্রকল্পে অংশ নেয়নি। তৎকালীন Mamata Banerjee সরকার পরিবর্তে “স্বাস্থ্যসাথী” প্রকল্প চালু রেখেছিল।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর থেকেই রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালু হবে বলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। অবশেষে নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই সেই সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ল।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে পরিবারপিছু বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা খরচ বহন করা হবে। সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতাল— দুই ক্ষেত্রেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে।
সবচেয়ে বড় ঘোষণা এসেছে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য। কেন্দ্রের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব পরিবার ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় রয়েছে, সেই পরিবারের ৭০ বছরের বেশি বয়সি সদস্যরা অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকার পৃথক টপ-আপ কভার পাবেন। এই অর্থ শুধুমাত্র প্রবীণ সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ভাগ হবে না।
এছাড়াও ২০২৪ সালের নিয়ম অনুযায়ী, আগে যাঁরা কিছু কারণে প্রকল্পের বাইরে ছিলেন, তাঁদের অনেককেই এবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাকা বাড়ি, দু’চাকা বা চারচাকার যানবাহন থাকা পরিবারও এখন আবেদন করতে পারবে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি সরকারি কর্মচারী, মাসিক ১০ হাজার টাকার বেশি আয় করা পরিবার এবং নির্দিষ্ট সীমার কিষান ক্রেডিট কার্ডধারী কৃষকরাও প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন “স্বাস্থ্যসাথী” প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে। গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পেয়েছেন। আয়ুষ্মান ভারত চালু হলে এই প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ হবে, নাকি দুই প্রকল্প একত্রিত হবে— তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বাংলায় চালু থাকা কোনও প্রকল্পই বিজেপি সরকার বন্ধ করবে না। তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারতকে একত্রিত করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়ুষ্মান ভারত চালু হলে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যখাতে কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বহু রোগীর উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগও বাড়বে। তবে বাস্তবে প্রকল্পটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখন দেখার বিষয়।
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে শুভেন্দু সরকার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি চাকরির বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানো, সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য BSF-কে জমি হস্তান্তর এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে দ্রুত রাজ্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বর্তমানে সাধারণ মানুষের নজর এখন একটাই প্রশ্নে— কবে থেকে আবেদন শুরু হবে এবং কীভাবে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পাওয়া যাবে। যদিও এই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি রাজ্য সরকার।