MV Hondius hantavirus
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস সংক্রমণ ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের আবহে অবশেষে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছল ক্রুজ জাহাজ MV Hondius। জাহাজে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে যাত্রীদের সরানোর কাজ। ইতিমধ্যেই অন্তত তিন জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, অসুস্থ হয়েছেন আরও কয়েক জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য (MV Hondius hantavirus)। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেন প্রশাসনের পাশাপাশি নজর রাখছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং একাধিক আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা।
রবিবার টেনেরিফের কাছে পৌঁছনোর পর বিশেষ সুরক্ষা পোশাক পরে মেডিক্যাল টিম জাহাজে ওঠে। ধাপে ধাপে যাত্রীদের নামিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কোয়ারান্টিনে পাঠানো শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, দক্ষিণ আটলান্টিক অঞ্চলে অভিযাত্রী সফরের সময়ই প্রথম অসুস্থ হতে শুরু করেন কয়েক জন যাত্রী। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ, Andes hantavirus নামের একটি বিরল স্ট্রেনের সংক্রমণ ঘটেছে জাহাজে। এই ভাইরাস দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে দেখা যায় এবং সীমিত ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে। প্রথম দিকে এক বৃদ্ধ দম্পতি-সহ কয়েক জনের শ্বাসকষ্ট এবং জ্বর দেখা দেয়। পরে তাঁদের মধ্যে অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়।
স্পেন প্রশাসন টেনেরিফ বন্দরে পৌঁছনোর আগেই বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি জারি করে। যাত্রীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে নামানো হচ্ছে। প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি অনুযায়ী আলাদা কোয়ারান্টিন ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া-সহ একাধিক দেশের নাগরিক রয়েছেন জাহাজটিতে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রোটোকল মেনেই তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে জাহাজটিকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করার কাজও শুরু হয়েছে।
হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর মূত্র, লালা বা মল থেকে ছড়ায়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি Hantavirus Pulmonary Syndrome (HPS) নামের প্রাণঘাতী শ্বাসযন্ত্রের রোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ হান্টাভাইরাস সহজে মানুষে মানুষে ছড়ায় না। তবে Andes strain কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম, আর সেই কারণেই MV Hondius-এর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে WHO জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সংক্রমণের ঝুঁকি আপাতত কম।
সংক্রমণ ধরা পড়ার পর গত কয়েক দিন ধরেই যাত্রীদের নিজেদের কেবিনে আটকে রাখা হয়েছিল। জাহাজে লাগাতার স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জীবাণুনাশক স্প্রে এবং কনট্যাক্ট ট্রেসিং চলছিল। কিছু যাত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপের ছিল। আবার অনেকের অভিযোগ, আতঙ্কের তুলনায় মিডিয়ায় বিষয়টি আরও বেশি ভয়াবহভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
WHO, CDC এবং ইউরোপীয় স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। কারণ জাহাজে থাকা যাত্রীরা একাধিক দেশের নাগরিক হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংক্রমণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাসের উপসর্গ অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ পরেও দেখা দিতে পারে। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণে রাখা হতে পারে।