Iran Hormuz toll system
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে এবার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ Strait of Hormuz নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল Iran। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বিদেশি জাহাজের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে “টোল ও পারমিট” ব্যবস্থা (Iran Hormuz toll system) চালু করেছে তেহরান। নতুন এই নীতির ফলে এখন থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং ইরানের অনুমতি নিয়েই জাহাজ চলাচল করতে হবে।
বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণ হয়। ফলে ইরানের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতি থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতিতেও শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। ইরান “Persian Gulf Strait Authority (PGSA)” নামে একটি নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করেছে। এই সংস্থার মাধ্যমে এখন হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলিকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। অনুমতির জন্য নির্দিষ্ট ই-মেইল প্রক্রিয়া ও নথিপত্র জমা দেওয়ার নিয়মও চালু করা হয়েছে।
তেহরানের দাবি, এই পদক্ষেপ মূলত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার জন্য নেওয়া হয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলি উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক প্রভাব বিস্তার করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান উত্তেজনার জেরেই এই সিদ্ধান্ত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকেই পারস্য উপসাগর ও হরমুজ অঞ্চলে সামরিক টানাপোড়েন ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা Israel-ঘনিষ্ঠ জাহাজগুলির উপর বাড়তি বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ পারমিট ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। সেই তালিকায় ইতিমধ্যেই রয়েছে India ও Pakistan। দুই দেশই নিজেদের পতাকাবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির দিক থেকে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে ভারত, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশিয়ার বহু দেশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে। ভারতের ক্ষেত্রেও এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের LPG, অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরশীল।
সম্প্রতি একটি ভারত-সংযুক্ত LPGবাহী জাহাজকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে হরমুজ পার করানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, ভারত পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে।
অন্যদিকে, Donald Trump ইরানের সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কড়া বার্তা দিয়েছেন। জবাবে তেহরান জানিয়েছে, তারা আর কোনও বিদেশি যুদ্ধজাহাজকে সহজে এই অঞ্চলে প্রবেশের অনুমতি দেবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন নীতি শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার উপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারত-সহ বহু দেশের অর্থনীতিতে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। কারণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যে কোনও বড় সংঘাত বা অবরোধ বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে।