Karoline Leavitt Iran
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি Karoline Leavitt-এর কন্যাসন্তানের জন্ম উপলক্ষে অভিনন্দন জানাল ইরান। তবে সেই শুভেচ্ছাবার্তার মধ্যেই ছিল তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষ এবং ‘মিনাব স্কুল হামলা’র স্মরণ। সম্প্রতি Karoline Leavitt সামাজিক মাধ্যমে জানান, তাঁর দ্বিতীয় সন্তান— কন্যা Viviana-র জন্ম হয়েছে। সেই পোস্টের জবাবে আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস একটি বার্তা (Karoline Leavitt Iran) দেয়, যেখানে বলা হয়, “শিশুরা নিষ্পাপ ও ভালোবাসার যোগ্য। মিনাবে যে ১৬৮ শিশুকে তোমার বস হত্যা করেছেন, তারাও শিশু ছিল।”
এই পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার Karoline Leavitt সামাজিক মাধ্যমে জানান যে তাঁর কন্যাসন্তান Viviana জন্মেছে। তিনি লেখেন, “আমাদের হৃদয় ভালোবাসায় ভরে গিয়েছে।” নবজাতককে কোলে নিয়ে নিজের ছবিও পোস্ট করেন তিনি।
এর পরই আর্মেনিয়ায় ইরানের দূতাবাস তাঁর পোস্ট উদ্ধৃত করে লিখে, “যখন তুমি তোমার শিশুকে চুমু খাবে, তখন মিনাবে নিহত শিশুদের মায়েদের কথা ভাবো।”
এই মন্তব্য সরাসরি ফেব্রুয়ারিতে ইরানের মিনাব এলাকায় একটি স্কুলে হওয়া ভয়াবহ হামলার দিকে ইঙ্গিত করে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলে ভয়াবহ হামলা হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই হামলায় বহু শিশু ও শিক্ষক নিহত হন। নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য থাকলেও ১৫০-র বেশি মৃত্যুর দাবি করা হয়েছে।
ইরান শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। পরে মার্কিন সামরিক তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও একটি মার্কিন Tomahawk missile ভুলবশত স্কুলে আঘাত করেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়।
তবে ওয়াশিংটন এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে পূর্ণ দায় স্বীকার করেনি।
মার্চ মাসে Karoline Leavitt সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে না।” সেই মন্তব্যের জবাব হিসেবেই ইরানের এই কটাক্ষ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানি দূতাবাসের পোস্টে Leavitt-র “boss” শব্দ ব্যবহার করে মার্কিন প্রশাসনের দিকেই সরাসরি আঙুল তোলা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত মুহূর্তকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার ঘটনা বিরল হলেও নতুন নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক Iran-US সংঘাতের আবহে সামাজিক মাধ্যম এখন কার্যত কূটনৈতিক যুদ্ধেরও মঞ্চ হয়ে উঠেছে। মিনাব হামলা নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। UNICEF, UNESCO-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলিও অভিযোগ করেছে, যদি স্কুলটিকে ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত লক্ষ্য করা হয়ে থাকে, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, Karoline Leavitt-কে উদ্দেশ্য করে ইরানের পোস্টটি শুধুমাত্র আবেগঘন প্রতিক্রিয়া নয়, বরং একটি কৌশলগত রাজনৈতিক বার্তা। একদিকে নবজাতকের জন্মকে ঘিরে মানবিক আবেগের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধ ও বেসামরিক হতাহতের প্রসঙ্গ তুলে মার্কিন প্রশাসনের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্ন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক Iran-US উত্তেজনার মধ্যে এই ধরনের বার্তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও তিক্ত করতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।