H1B Visa Meta Amazon Layoffs
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পে চলতে থাকা কর্মী ছাঁটাইয়ের ঢেউ এবার সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিতে শুরু করেছে ভারতীয় পেশাদারদের একাংশকে। বিশেষ করে H-1B ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় এখন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। মেটা, অ্যামাজন, ওরাকল-সহ একাধিক বড় প্রযুক্তি সংস্থা সাম্প্রতিক সময়ে কর্মী সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত (H1B Visa Meta Amazon Layoffs) নিয়েছে। তার ফলে চাকরি হারানো বহু ভারতীয় কর্মীর সামনে এখন সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়েছে।
মার্কিন অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও H-1B ভিসাধারী চাকরি হারালে তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিনের একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ পান। এই সময়ের মধ্যে তাঁকে নতুন চাকরি খুঁজে নিতে হবে এবং নতুন নিয়োগকারী সংস্থাকে তাঁর ভিসা স্পনসর করতে হবে। তা না হলে তাঁকে দেশ ছাড়তে হতে পারে। অর্থাৎ শুধু চাকরি নয়, অনেকের ক্ষেত্রে বসবাস, সন্তানদের পড়াশোনা এবং দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করা জীবনযাত্রাও হঠাৎ করে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র চাকরি হারানোর সমস্যা নয়। H-1B ভিসা কাঠামো কর্মীর আইনি অবস্থানকে সরাসরি নিয়োগকর্তার সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে চাকরি চলে গেলে সেটি অভিবাসন সংকটেও পরিণত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের গতি আগের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ায় নতুন চাকরি খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কিছু কর্মী সময় বাড়ানোর জন্য বিকল্প পথ খুঁজছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, অনেক ছাঁটাই হওয়া কর্মী B-2 ভিজিটর ভিসায় স্ট্যাটাস পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন, যাতে কিছু অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের আবেদনগুলির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথি চাওয়া বা আবেদন বাতিলের ঘটনাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবীরা।
পরিসংখ্যান বলছে, H-1B কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ভারতীয়রাই শীর্ষে। একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অনুমোদিত H-1B আবেদনগুলির বড় অংশই ভারতীয় নাগরিকদের। ফলে প্রযুক্তি শিল্পে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রত্যক্ষ প্রভাবও (H1B Visa Meta Amazon Layoffs) তাঁদের ওপর বেশি পড়ছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি H-1B ব্যবস্থার পুরনো কাঠামো নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে। অনেকের দাবি, কর্মসংস্থানের সঙ্গে আইনি অবস্থানকে এতটা সরাসরি যুক্ত রাখার ফলে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের সামনে ব্যক্তিগত ও আর্থিক সংকট তৈরি হয়।
অনেক ভারতীয় কর্মীর কাছে বিষয়টি এখন শুধুমাত্র ক্যারিয়ারের প্রশ্ন নয়, বরং ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের স্থিতিশীলতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তি শিল্পে অনিশ্চয়তার এই আবহে H-1B ভিসাধারীদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।