US Iran War Aircraft Loss Report
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা শাখা Congressional Research Service (CRS)-এর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি সামরিক বিমান ও ড্রোন ধ্বংস হয়েছে অথবা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত (US Iran War Aircraft Loss Report) হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে উন্নত যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান, ট্যাঙ্কার বিমান এবং ড্রোনও। রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকেই মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে রয়েছে MQ-9 Reaper ড্রোন, F-35 Lightning II যুদ্ধবিমান এবং F-15E Strike Eagle-এর মতো অত্যাধুনিক সামরিক সম্পদ। এগুলোর মধ্যে কিছু সরাসরি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, কিছু বিমান দুর্ঘটনা, উদ্ধার অভিযান বা অন্য সামরিক পরিস্থিতিতেও ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই ক্ষতির (US Iran War Aircraft Loss Report) আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কিছু প্রতিবেদনে শুধু বিমান ও ড্রোন ক্ষতির আনুমানিক খরচ প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার বৃহত্তর সামরিক অভিযানের মোট ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রে হারানো বিমানসংখ্যার হিসাব নয়, বরং আধুনিক আকাশযুদ্ধের বাস্তবতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলছে। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বিমান বাহিনী হিসেবেই মার্কিন বাহিনী পরিচিত। সেই অবস্থায় অত্যাধুনিক স্টেলথ বিমান বা ড্রোনও যদি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশল নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ধরনের রিপোর্ট নিয়ে এখনও বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, “ধ্বংস”, “ক্ষতিগ্রস্ত” এবং “অপারেশনাল ক্ষতি” — এই তিনটি বিষয়কে একইভাবে গণনা করলে সংখ্যা বড় দেখাতে পারে। অর্থাৎ রিপোর্টে উল্লেখিত ৪২টি প্ল্যাটফর্মের সবই যে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, এমন দাবি করা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে আংশিক ক্ষতি বা পরে মেরামতযোগ্য পরিস্থিতিও থাকতে পারে।
এই রিপোর্ট প্রকাশের পর ইরানের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, এই তথ্য যুদ্ধের সময় মার্কিন ক্ষতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন এখনও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত সরকারি ব্যাখ্যা দেয়নি।