ইজরায়েলি অলাভজনক সংস্থা Civil Commission-এর তৈরি প্রায় ৩০০ পাতার ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, হামলার সময় এবং পরবর্তী জিম্মি পরিস্থিতিতে নারী, পুরুষ এবং শিশু— সকলেই নৃশংস যৌন নির্যাতনের শিকার হন। তদন্তকারীদের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং “systematic” এবং “widespread” অর্থাৎ পরিকল্পিত ও ব্যাপক আকারে সংঘটিত হয়েছিল। রিপোর্টে ধর্ষণ, নগ্ন করে অপমান, যৌন নির্যাতন, অঙ্গহানি এবং মানসিক অত্যাচারের মতো একাধিক অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে বলা হয়েছে, এই ধরনের নির্যাতনের উদ্দেশ্য ছিল শুধু শারীরিক ক্ষতি করা নয়, বরং ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের উপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ধ্বংস নামিয়ে আনা। কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যে দাবি করা হয়েছে, পরিবারের সদস্যদের একে অপরের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনে বাধ্য করা হয়েছিল, যাতে মানসিক ট্রমা আরও গভীর হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা নতুন নয়, তবে পরিবারভিত্তিক মানসিক ধ্বংসের এই অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
Advertisement
রিপোর্টটি তৈরি করতে ৪৩০-রও বেশি সাক্ষাৎকার, প্রায় ১০ হাজার ছবি ও ভিডিও এবং হামলার বিভিন্ন স্থানের ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তকারীরা মুক্তিপ্রাপ্ত জিম্মি, প্রত্যক্ষদর্শী এবং হামলা থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। Associated Press-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, তদন্তে যৌন সহিংসতাকে হামলার “কেন্দ্রীয় অংশ” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এই রিপোর্টের নিরপেক্ষতা এবং সব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, বহু ক্ষেত্রে জীবিত অবস্থায় নির্যাতনের পাশাপাশি মৃতদেহ বিকৃত করার ঘটনাও ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে একাধিক নৃশংস ঘটনার বিবরণ। তদন্তকারীদের মতে, এই ধরনের সহিংসতার লক্ষ্য ছিল আতঙ্ক তৈরি করা এবং সমাজের ভিত নষ্ট করা।
এই রিপোর্ট প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির তরফে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে। বিভিন্ন মহল থেকে এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও Hamas-এর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই নতুন রিপোর্ট নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। এর আগেও তারা যৌন সহিংসতার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রিপোর্ট ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইজরায়েল-হামাস সংঘাত ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতেও নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।