Iran Strait of Hormuz Internet Cable Threat
ক্লাউড টিভি ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আবহে এবার সামনে এল আরও বড় আশঙ্কা। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান এখন নজর দিচ্ছে সমুদ্রের তলায় থাকা আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল নেটওয়ার্কের (Iran Strait of Hormuz Internet Cable Threat) দিকে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ডিজিটাল অবকাঠামোকে চাপের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে তেহরান।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে শুধু বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহণই হয় না, এই অঞ্চলের সমুদ্রতল দিয়েই ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যকে যুক্ত করে বহু গুরুত্বপূর্ণ ডেটা কেবলও গিয়েছে। সেই কেবল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা, ক্লাউড কম্পিউটিং, আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এখন শুধু জ্বালানি নয়, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোও। সমুদ্রের নীচ দিয়ে যাওয়া ফাইবার-অপটিক কেবলগুলির মাধ্যমেই বিশ্বের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্র্যাফিক আদানপ্রদান হয়। Google, Meta, Microsoft, Amazon-সহ বহু প্রযুক্তি সংস্থা এই নেটওয়ার্কের উপর নির্ভরশীল।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরান এই কেবলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি বাড়ানোর পথ খুঁজছে। এমনকি ভবিষ্যতে বিদেশি প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কাছ থেকে “ট্রানজিট ফি” বা ব্যবহার বাবদ অর্থ দাবি করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পাঠানোর প্রধান রুট এটি। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই যায়। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান এই অঞ্চলে নিজের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে বলে খবর। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এখন হরমুজ প্রণালীকে আগের চেয়ে অনেক বড় “অপারেশনাল জোন” হিসেবে দেখছে।
যদি সাবমেরিন কেবল বা হরমুজ রুটে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে শুধু তেলের দামই বাড়বে না, বিশ্ব অর্থনীতির ডিজিটাল পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং ট্রানজ্যাকশন, শেয়ার বাজার, ক্লাউড সার্ভার, AI পরিষেবা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের ইন্টারনেট ব্যবহারে তার প্রভাব পড়তে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ ভারত তার জ্বালানির বড় অংশ আমদানি করে পশ্চিম এশিয়া থেকে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ডেটা কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রেও এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘে ভারত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ শুধু মিসাইল বা যুদ্ধজাহাজের হবে না— ডেটা, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল অবকাঠামোও হবে নতুন অস্ত্র। ইরানের সাম্প্রতিক ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল ব্লকেডের ঘটনাও সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইরানে একাধিক বড় ইন্টারনেট শাটডাউন হয়েছে, যা অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।