• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Digital Arrest Scam Kolkata

সিঁথিতে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণা, বৃদ্ধের কাছ থেকে ৬১ লক্ষের বেশি লুট

কলকাতার সিঁথিতে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণায় ৬১.৮ লক্ষ টাকা খোয়ালেন এক বৃদ্ধ। কীভাবে ঘটল এই সাইবার জালিয়াতি, জানুন বিস্তারিত।

সিঁথিতে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণা, বৃদ্ধের কাছ থেকে ৬১ লক্ষের বেশি লুট

Digital Arrest Scam Kolkata

Published by: cloud_admin
  • Posted:April 13, 2026 7:49 am
  • Update:April 13, 2026 7:49 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: কলকাতার সিঁথি এলাকায় ফের সামনে এল ভয়ংকর সাইবার প্রতারণার ঘটনা। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে এক বৃদ্ধের কাছ থেকে ৬১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে (Digital Arrest Scam Kolkata) নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন দক্ষিণ সিঁথির বাসিন্দা ওই ব্যক্তি, যার পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল ওই বৃদ্ধের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে নিজেকে মুম্বইয়ের কোলাবা থানার পুলিশ আধিকারিক বলে পরিচয় দেয় প্রতারক। প্রথমেই তাঁকে জানানো হয়, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নাকি সন্ত্রাসবাদী অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত। এই গুরুতর অভিযোগ শুনে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি।

এরপর ধাপে ধাপে সাজানো হয় পুরো প্রতারণার ফাঁদ। ফোনে বলা হয়, তাঁর আধার নম্বর ব্যবহার করে মুম্বইয়ের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই বেআইনি লেনদেন চলছে। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভুয়ো ব্যাঙ্ক ডিটেল, নথি এবং অন্যান্য তথ্য পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে ক্রমাগত চাপ ও হুমকি—তদন্তে সহযোগিতা না করলে গ্রেপ্তার করা হবে।

এই ভয় ও মানসিক চাপে পড়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। অভিযোগ, তাঁকে একাধিক ধাপে টাকা ট্রান্সফার করতে বাধ্য করা হয়। শেষ পর্যন্ত মোট ৬১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা প্রতারকদের হাতে তুলে দেন তিনি। পরে বুঝতে পারেন, তিনি একটি সুপরিকল্পিত সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নামে কোনও আইনি প্রক্রিয়া ভারতে নেই। সাইবার অপরাধীরা এই ভুয়ো ধারণা ব্যবহার করেই সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই ধরনের প্রতারণা বাড়ছে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রতারণায় অপরাধীরা প্রথমে ভয় তৈরি করে, তারপর ভুয়ো নথি ও পরিচয়ের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে তোলে। এরপর মানসিক চাপ তৈরি করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয় ভুক্তভোগীকে, যাতে তিনি অন্য কারও সঙ্গে পরামর্শ করার সুযোগ না পান।

পুলিশের তরফে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে—কোনও সরকারি সংস্থা বা পুলিশ কখনও ফোন বা ভিডিও কলে গ্রেপ্তার করে না বা টাকা চায় না। এই ধরনের ফোন পেলে সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে স্থানীয় থানায় বা সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, ডিজিটাল যুগে প্রতারণার কৌশল যতই আধুনিক হোক, সচেতন থাকাই একমাত্র সুরক্ষা। সামান্য অসতর্কতা থেকেই মুহূর্তে উধাও হতে পারে জীবনের সঞ্চয়।

More News