Srijato Arrest Warrant Bengal
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: আট বছরের পুরনো এক মামলা ফের সামনে এসে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন কবি Srijato Bandyopadhyay। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগের সূত্রপাত ২০১৭ সালে, যখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে Yogi Adityanath-এর শপথের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অভিশাপ’ শীর্ষক একটি কবিতা পোস্ট (Srijato Arrest Warrant Bengal) করেন তিনি। সেই কবিতাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে একাধিক এফআইআর দায়ের হয় এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫এ ধারা সহ তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, কবিতাটিতে হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ও ব্যক্তিত্বকে বিদ্রূপ করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে কলকাতা ও পরে শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম শাখা এই ঘটনাকে অনলাইন অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা দায়ের করে বা পুনরুজ্জীবিত করে। যদিও সেই সময় Srijato Bandyopadhyay জামিন পান এবং বিষয়টি ধীরে ধীরে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম থেকে সরে যায়, তবুও মামলাটি আদালতে মুলতুবি ছিল। সাম্প্রতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা সেই পুরনো মামলাকেই নতুন করে সক্রিয় করে তুলেছে।
রাজ্যে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই পদক্ষেপের সময় নির্বাচনকে ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও সংস্কৃতিজগতের একাংশের অভিযোগ, একটি পুরনো ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলাকে সামনে এনে এক জন প্রকাশ্য সমালোচককে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, এটি নির্বাচনের আগে ভয় প্রদর্শনের কৌশল এবং বেছে বেছে আইনের প্রয়োগের উদাহরণ। অন্যদিকে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, আইনের চোখে সকলেই সমান—কবি বা বুদ্ধিজীবী বলে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন, এবং এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।
উল্লেখ্য, Srijato Bandyopadhyay দীর্ঘদিন ধরেই সাহিত্য ও রাজনীতির সংযোগস্থলে অবস্থান করছেন। ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ ও তির্যক ভাষায় তিনি সাম্প্রদায়িকতা, সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ এবং রাজনৈতিক ধর্মীয়তার সমালোচনা করে থাকেন। অতীতেও এই কারণে তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এমনকি প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে একসময় পুলিশি নিরাপত্তাও নিতে হয়েছিল তাঁকে।
সব মিলিয়ে, একটি কবিতাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই মামলা এখন কেবল আইনি পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় অনুভূতি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োগ—এই তিনের সংঘাতে পরিণত হয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর হলে বিষয়টি আরও বড় আইনি ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়, সেটাই দেখার।