• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Delhi Hydrogen Bus

দিল্লিতে প্রথম হাইড্রোজেন বাস, সিএনজি-র থেকেও উন্নত বিকল্প বলে দাবি

দিল্লিতে চালু হল দেশের প্রথম হাইড্রোজেন বাস। সিএনজি-র তুলনায় আরও কম দূষণ ও বেশি দক্ষ বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। সবুজ পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কেন্দ্র সরকার।

দিল্লিতে প্রথম হাইড্রোজেন বাস, সিএনজি-র থেকেও উন্নত বিকল্প বলে দাবি

Delhi Hydrogen Bus

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 15, 2026 7:19 am
  • Update:May 15, 2026 7:19 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: দেশের রাজধানী দিল্লিতে চালু হল প্রথম হাইড্রোজেন চালিত বাস (Delhi Hydrogen Bus)। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ ব্যবস্থার দিকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে এই প্রকল্পকে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া এই বাসকে “ভবিষ্যতের গণপরিবহণ” বলেও দাবি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিএনজি বাসের তুলনায় হাইড্রোজেন বাস আরও কম দূষণ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে আরও কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

এই নতুন হাইড্রোজেন বাস প্রকল্প মূলত দেশের সবুজ জ্বালানি নীতির অংশ। গত কয়েক বছরে কেন্দ্র সরকার ইলেকট্রিক ভেহিকল, বায়োফুয়েল এবং গ্রিন হাইড্রোজেন নিয়ে একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করেছে। এবার সেই পরিকল্পনার বাস্তব রূপ দেখা গেল দিল্লির রাস্তায়।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাসে ব্যবহার করা হয়েছে ফুয়েল সেল প্রযুক্তি। অর্থাৎ বাসটি সরাসরি হাইড্রোজেন গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে চলবে। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল—ডিজেল বা পেট্রোলের মতো ধোঁয়া নির্গত হয় না। এমনকি সিএনজি বাসের তুলনায়ও দূষণ অনেক কম। কারণ হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল থেকে প্রধানত জলীয় বাষ্প নির্গত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির মতো শহরে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ বায়ুদূষণের নিরিখে দিল্লি বহুদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরগুলির তালিকায় রয়েছে। শীতকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সেই কারণে গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব করার উপর জোর দিচ্ছে সরকার।

হাইড্রোজেন বাসের আরেকটি বড় সুবিধা হল দ্রুত রিফুয়েলিং। ইলেকট্রিক বাস চার্জ দিতে অনেক সময় লাগে, কিন্তু হাইড্রোজেন বাসে তুলনামূলক কম সময়ে জ্বালানি ভরা সম্ভব। পাশাপাশি দীর্ঘ দূরত্বও অতিক্রম করতে পারে এই বাস। ফলে আন্তঃনগর পরিবহণেও ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা।

তবে এই প্রযুক্তির সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল খরচ। বর্তমানে হাইড্রোজেন উৎপাদন এবং সংরক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পাশাপাশি দেশে পর্যাপ্ত হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং স্টেশনও নেই। ফলে এই প্রযুক্তিকে বৃহত্তর স্তরে চালু করতে গেলে বড় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত উন্নতির মাধ্যমে এই খরচ কমানো সম্ভব হতে পারে।

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন শহরে পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোজেন বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দিল্লির অভিজ্ঞতা সফল হলে কলকাতা, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মতো শহরেও ভবিষ্যতে এই ধরনের বাস চালানো হতে পারে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও হাইড্রোজেন পরিবহণ প্রযুক্তির উপর জোর বাড়ছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই হাইড্রোজেন চালিত বাস ও ট্রেন চালাচ্ছে। ভারতও এখন সেই দৌড়ে নিজেদের জায়গা শক্ত করতে চাইছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকে গ্রিন হাইড্রোজেন ভারতের জ্বালানি নীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এটি শুধু পরিবহণ নয়, শিল্পক্ষেত্র এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে আমদানি করা জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লিতে প্রথম হাইড্রোজেন বাস চালু হওয়া প্রতীকীভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি শুধু একটি নতুন বাস নয়, বরং ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

More News