NEET Computer Based Exam
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: দেশজুড়ে NEET-UG ২০২৬ প্রশ্নফাঁস বিতর্কের মাঝেই বড় সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র সরকার। আগামী বছর থেকে NEET পরীক্ষাকে পুরোপুরি কম্পিউটার ভিত্তিক (NEET Computer Based Exam) করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (NMC)-এর মধ্যে এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে বলে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁস কাণ্ড। NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। পরে কেন্দ্র সরকার পরীক্ষাটি বাতিল করে এবং তদন্তভার তুলে দেয় সিবিআইয়ের হাতে। তদন্তে উঠে এসেছে বহু রাজ্যে বিস্তৃত একটি চক্রের হদিশ। অভিযোগ, “গেস পেপার”-এর নামে আসল প্রশ্নপত্র কোটি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র হাতে লিখে স্ক্যান করে PDF আকারে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা-সহ একাধিক রাজ্যে এই চক্রের যোগ পাওয়া গিয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে প্রশ্ন কিনেছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতেই কেন্দ্র নতুন পরীক্ষাপদ্ধতি (NEET Computer Based Exam) নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্পূর্ণ অনলাইন পরীক্ষার পাশাপাশি একটি “হাইব্রিড মডেল”-ও বিবেচনায় রয়েছে। সেই মডেলে প্রশ্নপত্র ডিজিটালি পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং পরীক্ষার কিছুক্ষণ আগে নিরাপদ ব্যবস্থায় স্থানীয়ভাবে প্রিন্ট করা হবে। এর ফলে প্রশ্নপত্র পরিবহণ ও সংরক্ষণের সময় যে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে, তা অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে পুরোপুরি অনলাইন পরীক্ষা চালু করা সহজ নয় বলেও স্বীকার করেছে সরকারি মহল। কারণ প্রতি বছর প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী NEET-এ অংশ নেয়। এত বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর জন্য একসঙ্গে ডিজিটাল পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিকাঠামো এখনও দেশের সব জায়গায় নেই। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা ও ছোট শহরগুলিতে পর্যাপ্ত কম্পিউটার সেন্টার, ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে ২০২৪ সালের NEET বিতর্কের পর গঠিত আর. রাধাকৃষ্ণন কমিটিও পরীক্ষাকে ধীরে ধীরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করেছিল। কমিটির মতে, সম্পূর্ণ কাগজভিত্তিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ছাপানো, পরিবহণ ও সংরক্ষণের বহু স্তরে “হিউম্যান টাচপয়েন্ট” থাকে, যা ফাঁসের ঝুঁকি বাড়ায়। ডিজিটাল ব্যবস্থায় সেই ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ আবার সতর্কও করছেন। তাঁদের মতে, অনলাইন পরীক্ষা চালু হলে নতুন ধরনের সাইবার নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হতে পারে। হ্যাকিং, সার্ভার বিভ্রাট বা ডিজিটাল কারচুপির ঝুঁকিও থেকে যায়। ফলে শুধু অনলাইন করলেই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে না। পরীক্ষার নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং স্বচ্ছতা—তিনটিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
NEET-UG বর্তমানে দেশের একমাত্র মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ এই পরীক্ষার উপর নির্ভর করে। তাই প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর শুধু ছাত্রছাত্রী নয়, অভিভাবক এবং শিক্ষামহলেও প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও NTA-র ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে NTA ঘোষণা করেছে, বাতিল হওয়া NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার পুনঃপরীক্ষা আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে কি না এবং পরীক্ষার ফি ফেরত দেওয়া হবে কি না, সেই বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হচ্ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে NEET পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনে পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হলেও ছাত্রছাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন কেন্দ্র ও NTA-র কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।