Petrol Diesel Price Hike India
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: অবশেষে জল্পনার অবসান। চার বছর পর দেশে বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতার জেরে বড়সড় আর্থিক চাপে (Petrol Diesel Price Hike India) পড়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs)। সেই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার থেকে দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপিছু প্রায় ₹৩ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে সিএনজি-র দামও।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ₹৯৭.৭৭ প্রতি লিটার এবং ডিজেলের দাম ₹৯০.৬৭। কলকাতায় পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ₹১০৮.৭৪ এবং ডিজেলের দাম ₹৯৫.১৩ প্রতি লিটার। মুম্বই ও চেন্নাইতেও জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই হয়। ফলে সেখানে সামান্য উত্তেজনাও গোটা বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে পারে।
সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ₹১৬০০ কোটি ক্ষতির মুখে পড়ছিল। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে খুচরো দামের সামঞ্জস্য না থাকায় IOC, BPCL এবং HPCL-এর উপর বিশাল চাপ তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রায় ₹১.২ লক্ষ কোটি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরিও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরনো দামে জ্বালানি বিক্রি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাঁর দাবি ছিল, তেল সংস্থাগুলি প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়ছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে—₹৩ বাড়ালেই কি সমস্যার সমাধান হবে? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই বৃদ্ধি আসলে সাময়িক স্বস্তি মাত্র। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং পরিবহণ খরচ এখনও অত্যন্ত বেশি। এনডিটিভির রিপোর্ট বলছে, বর্তমান ক্ষতি পুরোপুরি সামাল দিতে গেলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আরও ₹২৮ থেকে ₹৩৩ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে জ্বালানির দাম বাড়তেই (Petrol Diesel Price Hike India) সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। ট্রাক ভাড়া, বাস পরিষেবা, অ্যাপ ক্যাব থেকে শুরু করে কৃষিক্ষেত্র—সব জায়গাতেই ডিজেলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির নতুন ঢেউ আসতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের।
শুধু সাধারণ মানুষই নয়, শিল্পক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। টাটা মোটরস ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে গাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি জনগণকে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহণ ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হয় বা হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।