KSRTC fined for denying seat
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : কেরালায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সরকারি বাস পরিষেবার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল কনজিউমার কমিশন। অসুস্থ যাত্রীকে সিট না দেওয়া এবং নির্ধারিত স্টপেজে নামাতে অস্বীকার করার অভিযোগে Kerala State Road Transport Corporation বা KSRTC-কে ₹৩০,০০০ জরিমানা (KSRTC fined for denying seat) করা হয়েছে।
ঘটনাটি কেরালার মালাপ্পুরম জেলার। অভিযোগ অনুযায়ী, এক যাত্রী—মোহাম্মদ জয়নুদ্দিন—থ্রিসুর থেকে মালাপ্পুরমের উদ্দেশ্যে একটি KSRTC বাসে ওঠেন। বাসে ওঠার পর তিনি দেখেন কোনও খালি সিট নেই। তিনি কন্ডাক্টরকে নিজের অসুস্থতার কথা জানান এবং বসার জন্য অনুরোধ করেন।
কিন্তু অভিযোগ, সেই অনুরোধ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়। শুধু তাই নয়, কন্ডাক্টর বা বাস কর্তৃপক্ষ তাঁর সমস্যার প্রতি কোনও সহানুভূতি দেখাননি। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন তাঁকে তাঁর নির্ধারিত স্টপেজে নামানোও হয়নি।
এই ঘটনার পর ওই যাত্রী কনজিউমার কমিশনের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ শুনানির পর মালাপ্পুরম জেলা কনজিউমার ডিসপিউটস রিড্রেসাল কমিশন এই ঘটনাকে “পরিষেবার ক্ষেত্রে গুরুতর গাফিলতি” বলে আখ্যা দেয়।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, একজন অসুস্থ যাত্রীকে সিট না দেওয়া এবং নির্ধারিত স্টপেজে নামাতে ব্যর্থ হওয়া—এই দুই ক্ষেত্রেই পরিষেবা প্রদানকারীর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা স্পষ্ট। এর ফলে ওই যাত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ফলে KSRTC-কে ওই যাত্রীকে ₹৩০,০০০ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায় শুধু একটি ক্ষতিপূরণ নয়, বরং একটি শক্ত বার্তা—পাবলিক ট্রান্সপোর্টেও যাত্রীদের অধিকার রয়েছে, এবং সেই অধিকার লঙ্ঘন হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও নজির হয়ে থাকতে পারে। কারণ, সরকারি পরিবহণ সংস্থাগুলিকে অনেক সময় যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতার প্রশ্নে ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু এই রায় দেখিয়ে দিল, পরিষেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সরকারি সংস্থাও আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
এছাড়া, অসুস্থ, প্রবীণ বা বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের ক্ষেত্রে বাড়তি দায়িত্ব নেওয়া পরিবহণ কর্মীদের কর্তব্য। এই ঘটনা সেই দায়িত্ববোধের অভাবকেই সামনে এনে দিয়েছে।
এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে বাস পরিষেবায় কর্মীদের আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। একইসঙ্গে, সাধারণ যাত্রীরাও তাঁদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন হবেন এবং প্রয়োজনে আইনের সাহায্য নিতে উৎসাহিত হবেন।
সব মিলিয়ে, কেরালার এই ঘটনা শুধু একটি রাজ্যের সীমাবদ্ধ নয়—এটি গোটা দেশের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।