Noida Jump Case 2026
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের নইডায় সম্পর্কের টানাপোড়েন ঘিরে ভয়াবহ ঘটনা। প্রাক্তন প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে allegedly আটকে রেখে মারধরের পর তৃতীয় তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু (Noida Jump Case 2026) হল এক যুবকের। গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর সঙ্গে থাকা এক তরুণী। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে যুবকের প্রাক্তন প্রেমিকা চঞ্চল রানা এবং তাঁর স্বামী হিতেশ রানাকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে নইডার সেক্টর-২৪ এলাকার চৌড়া রঘুনাথপুর গ্রামে। মৃত যুবক তাঁর এক মহিলা বন্ধুকে নিয়ে গভীর রাতে প্রাক্তন প্রেমিকা চঞ্চল রানার বাড়িতে যান। উদ্দেশ্য ছিল চঞ্চলের স্বামী হিতেশ রানার সঙ্গে কথা বলে পুরনো বিবাদ মিটিয়ে ফেলা।
তদন্তকারীদের দাবি, বিয়ের পরেও চঞ্চল রানার সঙ্গে ওই যুবকের যোগাযোগ ছিল। তা নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য অশান্তি চলছিল। বুধবার রাতে সেই বিষয় নিয়েই নতুন করে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, এরপর হিতেশ রানা ও তাঁর স্ত্রী মিলে যুবক ও তাঁর মহিলা বন্ধুকে মারধর করেন। এমনকি হকি স্টিক দিয়েও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের দাবি, মারধরের পর ওই দু’জনকে বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, আরও অত্যাচারের আশঙ্কায় সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা (Noida Jump Case 2026) করেছিলেন তাঁরা। রাত প্রায় ৩টা নাগাদ দু’জন তৃতীয় তলা থেকে ঝাঁপ দেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রথমদিকে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। কিন্তু তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়তেই পুলিশ চঞ্চল রানা ও তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ইতিমধ্যেই কল ডিটেল রেকর্ড (CDR), সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের বয়ান খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার পিছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা এবং মানসিক চাপ বড় কারণ হতে পারে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাতের বেলায় বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা গিয়েছিল। যদিও পুলিশ এখনও সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে এবং আহত তরুণীর সম্পূর্ণ জবানবন্দির অপেক্ষায় রয়েছে।
সম্পর্কের টানাপোড়েন, হিংসা এবং মানসিক নির্যাতন যে কতটা ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, নইডার এই ঘটনা যেন ফের সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিল।