Bengal Election 2026 Analysis
অরিন্দম নাথ : পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে—এবারের লড়াই একেবারেই একতরফা নয়, বরং হতে চলেছে ফটোফিনিশের (Bengal Election 2026 Analysis) মতো টানটান। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্বাচনকে শুধুমাত্র প্রচারের হাওয়া বা জনসভায় ভিড় দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে; বরং আসল লড়াই নির্ভর করছে জটিল ভোট-সমীকরণ ও বাস্তব ভোটার আচরণের উপর। বিশেষ করে গত তিনটি বড় নির্বাচনের ভোট শতাংশ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির একটি স্থায়ী ভোটব্যাঙ্ক প্রায় ২.৩০ কোটির আশেপাশে স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট পেলেও, সম্ভাব্য ভোটার তালিকা সংশোধন এবং তথাকথিত ‘অদৃশ্য ফ্যাক্টর’ বাদ গেলে তাদের কার্যকর ভোট কমে আসতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।
এই প্রেক্ষাপটে মোট ভোটারের সংখ্যা কমে প্রায় ৬.৭০ কোটিতে দাঁড়াতে পারে এবং ভোটদানের হার ৮০ শতাংশের আশেপাশে থাকলে মোট ভোট পড়তে পারে প্রায় ৫.৩৫ থেকে ৫.৪৫ কোটির মধ্যে। এই অঙ্কে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত কম হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট আলাদা লড়াই করলে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যা আসন সমীকরণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় কংগ্রেসের শক্তি বাড়লে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে তার প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া রাজনৈতিক ইস্যুর ক্ষেত্রেও এবার একটি ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রচারের ময়দানে প্রচলিত পরিচয়ভিত্তিক ইস্যুর পাশাপাশি শাসনব্যবস্থা, চাকরি দুর্নীতি, শিল্পহীনতা এবং কৃষক সমস্যা—এই বিষয়গুলি সাধারণ ভোটারের মনে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে আলুচাষীদের দাম না পাওয়া, সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বকেয়া, এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প নিয়ে প্রতিশ্রুতি—এসব বিষয় ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, শহুরে শিক্ষিত ভোটারদের ক্ষেত্রেও এবার ধর্মীয় ও পরিচয়ভিত্তিক ভোটের প্রভাব অস্বীকার করা যাবে না। যদিও প্রকাশ্যে ভিন্ন মত প্রকাশ করা হয়, কিন্তু ব্যালট বাক্সে সেই প্রভাব প্রতিফলিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর নির্বাচন একটি ক্লাসিক ‘ক্লোজ কনটেস্ট’-এ পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তৃণমূল যদি এত প্রতিকূলতার মধ্যেও জয় পায়, তাহলে তা সংগঠন ও প্রার্থী নির্বাচনের কৌশলের সাফল্য হিসেবে দেখা হবে। অন্যদিকে বিজেপি যদি সামান্য ব্যবধানেও এগিয়ে যায়, তাহলে সেটি হবে দীর্ঘদিনের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার ফল। বর্তমান হিসেব অনুযায়ী, দুই প্রধান দলের আসন সংখ্যা ১৪০-১৪৫-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে—যেখানে সামান্য ব্যবধানই নির্ধারণ করবে শেষ ফলাফল।