RSS Bengal Secret Meeting Election
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : প্রথম দফার ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ঠিক এই সময়েই সামনে আসছে এক নতুন কৌশলের দাবি—Rashtriya Swayamsevak Sangh-এর ‘নীরব জনসংযোগ অভিযান’। ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গোপনে চলছে একাধিক বৈঠক, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার (RSS Bengal Secret Meeting Election) জন্ম দিয়েছে।
সূত্রের দাবি, রাজ্যের প্রায় ২৫০টিরও বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কাজ করছেন সঙ্ঘের স্বয়ংসেবকরা। ৪-৫ জনের দল তৈরি করে পাড়ায় পাড়ায় ‘ড্রয়িংরুম বৈঠক’ করা হচ্ছে—যেখানে স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হচ্ছে। সঙ্ঘের ভাষায় এই উদ্যোগ ‘লোকমত পরিশোধন’ বা জনমতকে প্রভাবিত করার একটি সামাজিক প্রক্রিয়া।
এই ‘ড্রয়িংরুম বৈঠক’-এর পরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত বলেই দাবি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে এই প্রচার। লক্ষ্য—ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছে তাঁদের মতামত গঠন করা, তবে কোনও রকম ভয় বা প্রলোভন ছাড়াই।
এবারের প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নারী সুরক্ষা ইস্যুকে। বিভিন্ন লিফলেটে আরজি কর কাণ্ডের উল্লেখ করা হচ্ছে বলে দাবি। পাশাপাশি ‘দুর্গা ব্রিগেড’ গঠনের প্রতিশ্রুতি এবং নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে মহিলা ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
এছাড়াও, অনুপ্রবেশ এবং তথাকথিত ‘হিন্দু সঙ্কট’ ইস্যুও সামনে আনা হচ্ছে। সঙ্ঘের কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অবাধ অনুপ্রবেশ রাজ্যের জনবিন্যাসে প্রভাব ফেলছে এবং তা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। এই প্রেক্ষিতে ‘হিন্দু ঐক্য’-র বার্তা গ্রাম থেকে শহরের অন্দরে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
শুধু প্রচার নয়, নজরদারির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বুথ দখল বা নির্বাচনী হিংসা রুখতে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে দাবি। পাশাপাশি ভোটারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার কথাও সামনে এসেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ বছরে বাংলায় RSS-এর শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৯-১০ সালে যেখানে শাখার সংখ্যা ছিল প্রায় ৯০০, সেখানে ২০২৬-এর আগে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,৩০০-এ। বিশেষ করে মধ্যবঙ্গে গত কয়েক বছরে দ্রুত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
যদিও Rashtriya Swayamsevak Sangh এই সমস্ত কর্মকাণ্ডকে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি হিসেবে ব্যাখ্যা করে, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটের ঠিক আগে এই ধরনের ‘নীরব অভিযান’ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন মূল প্রশ্ন—এই ‘প্ল্যান বি’ বা নীরব প্রচার কি সত্যিই ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারবে? তার উত্তর মিলবে ব্যালট বাক্সেই।