Iran military rebuild
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরান দ্রুত নিজেদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করছে বলে নতুন এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক পরিকাঠামো পুনরুদ্ধারের (Iran military rebuild) কাজ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত এগোচ্ছে। বিশেষ করে ড্রোন উৎপাদন ফের শুরু হওয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চিং সরঞ্জাম এবং অস্ত্র উৎপাদন লাইনের পুনর্গঠন করছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সংঘাত আবার শুরু হলে আঞ্চলিক শক্তিগুলির কাছে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, চলমান যুদ্ধবিরতির সময় ইরান ইতিমধ্যেই ড্রোন উৎপাদনের একটি অংশ পুনরায় চালু করেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের মোট ড্রোন সক্ষমতার একটি বড় অংশ এখনও কার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা CNN-কে উদ্ধৃত করে বলেছেন যে, ইরানের ড্রোন হামলার সক্ষমতা ছয় মাসের মধ্যেই পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পুনর্গঠনের গতি গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রাথমিক অনুমানকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।
তবে এই বিষয়ে ভিন্ন মূল্যায়নও সামনে এসেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক উৎপাদন ক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে এবং তাদের হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই দুই ভিন্ন মূল্যায়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে কিছু গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে ইরান দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন ক্ষয়ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধান না এলে অন্য পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ড্রোন প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ সংঘাতের অন্যতম বড় উপাদান হয়ে উঠতে পারে। কারণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার তুলনায় ড্রোন তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত মোতায়েন করা যায় এবং তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে।