ইস্তেহারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর জন্য আলাদা আলাদা আর্থিক সুবিধা। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য মাসিক ₹৩০০০ ভাতার প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ভাতা, কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা, এবং সরকারি কর্মীদের জন্য বকেয়া ডিএ ও ৭ম পে কমিশন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিশ্রুতিগুলি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে—বিজেপি এবার সরাসরি অর্থনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করতে চাইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আসলে একটি বড় কৌশলগত পাল্টা চাল। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই All India Trinamool Congress রাজ্যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো প্রকল্প চালু করে মহিলা ভোটব্যাঙ্কে শক্ত ভিত তৈরি করেছে। ফলে বিজেপি এবার সেই একই জায়গায় আরও বড় অঙ্কের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিযোগিতায় নামল। অর্থাৎ, বাংলার ভোট এখন অনেকটাই ‘ভাতা বনাম ভাতা’ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
Advertisement
তবে শুধু আর্থিক সহায়তাতেই থেমে থাকেনি এই ইস্তেহার। এতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। যেমন—ছয় মাসের মধ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) চালুর অঙ্গীকার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা, অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর নীতি, এবং শিল্প ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। ফলে বিজেপির এই ইস্তেহার একদিকে যেমন আর্থিক সহায়তার উপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক সংস্কারের বার্তাও দিচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ অবশ্য এই বিপুল প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এত বড় আর্থিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে রাজ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ধরনের প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত কার্যকর, কারণ এটি সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত।
সব মিলিয়ে, বিজেপির এই ইস্তেহার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র আদর্শ বা উন্নয়ন ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সরাসরি অর্থনৈতিক সুবিধাই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী অস্ত্র। এখন দেখার, এই ‘ভাতা রাজনীতি’-র লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার কৌশল বেশি কার্যকর হয় এবং ভোটাররা কাকে বেশি ভরসা করেন।