• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

China Trained Russian Soldiers

‘গোপনে রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে চিন’, রিপোর্ট ঘিরে তীব্র আন্তর্জাতিক বিতর্ক

ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গোপনে প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল চিনের সেনাবাহিনী। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের একাংশ পরে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেন বলেও উঠে এসেছে রিপোর্টে।

‘গোপনে রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে চিন’, রিপোর্ট ঘিরে তীব্র আন্তর্জাতিক বিতর্ক

China Trained Russian Soldiers

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 19, 2026 5:39 pm
  • Update:May 19, 2026 5:39 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই সামনে এল এক বিস্ফোরক আন্তর্জাতিক দাবি। ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য এবং কিছু নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, চিনের সেনাবাহিনী ২০২৫ সালের শেষ দিকে গোপনে প্রায় ২০০ জন রুশ সামরিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ (China Trained Russian Soldiers) দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণ নেওয়া ওই সেনাদের একাংশ পরে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে গিয়ে লড়াইয়েও অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নাকি দুই দেশের সামরিক আধিকারিকদের মধ্যে হওয়া একটি গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল। নথি অনুযায়ী, বেজিং, নানজিং, শিজিয়াঝুয়াং, ঝেংঝৌ এবং ইবিনের মতো একাধিক সামরিক কেন্দ্রে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ছিল আধুনিক যুদ্ধের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্র— ড্রোন অপারেশন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, সেনা বিমান পরিচালনা, নজরদারি প্রযুক্তি এবং মেকানাইজড ইনফ্যান্ট্রি কৌশল। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের কারণে এই প্রশিক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রশিক্ষণ নেওয়া রুশ সেনাদের মধ্যে জুনিয়র সার্জেন্ট থেকে শুরু করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার অফিসারও ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে পরে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ড্রোন-সংক্রান্ত সামরিক অভিযানে দেখা গিয়েছে বলে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির বক্তব্য।

এই রিপোর্ট সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে চিনের অবস্থান নিয়ে। কারণ যুদ্ধের শুরু থেকেই বেজিং সরকার নিজেদের “নিরপেক্ষ” হিসেবে তুলে ধরেছে এবং শান্তি আলোচনার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলির একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে চিন সরাসরি অস্ত্র না দিলেও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তার মাধ্যমে রাশিয়াকে সাহায্য করছে।

যদিও এখনও পর্যন্ত চিন বা রাশিয়া— কোনও দেশই এই অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ফলে দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই রিপোর্টকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই তথ্য সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা রাশিয়া-চিন সামরিক সম্পর্কের এক নতুন স্তরকে সামনে আনতে পারে। কারণ এর আগে দুই দেশের মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার খবর সামনে এলেও যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহারের জন্য সেনা প্রশিক্ষণের অভিযোগ এত স্পষ্টভাবে আগে প্রকাশ্যে আসেনি।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই রিপোর্ট ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনলাইনে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, চিন যদি নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকে, তাহলে এই ধরনের অভিযোগ কীভাবে সামনে আসছে। আবার অন্য একাংশের মত, গোয়েন্দা সূত্রভিত্তিক রিপোর্টকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরা ঠিক হবে না এবং স্বাধীন যাচাই জরুরি।

More News