US Clears Apache M777 Defence
ক্লাউড টিভি ডেস্ক : ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বড় পদক্ষেপ নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। Apache AH-64E অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং M777A2 Ultra-Light Howitzer-এর রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অপারেশনাল প্রস্তুতির জন্য মোট ৪২৮.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি সামরিক সহায়তা প্যাকেজ (US Clears Apache M777 Defence) অনুমোদন করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইতিমধ্যেই এই Foreign Military Sales (FMS) প্রস্তাব কংগ্রেসে পাঠিয়েছে।
এই অনুমোদনের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি M777A2 Ultra-Light Howitzer-এর জন্য। প্রায় ২৩ কোটি ডলারের এই প্যাকেজে রয়েছে স্পেয়ার পার্টস, মেরামতি পরিষেবা, ফিল্ড সাপোর্ট, প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা। এই অত্যাধুনিক হাউইৎজারগুলি বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনী লাদাখ-সহ উচ্চ পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় ব্যবহার করছে। কম ওজন এবং দ্রুত মোতায়েনের ক্ষমতার জন্য M777 ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে, AH-64E Apache হেলিকপ্টারের জন্য প্রায় ১৯৮.২ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করা হয়েছে। এর আওতায় থাকবে ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট, লজিস্টিক সহায়তা, টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন, প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল সাপোর্ট। Apache বিশ্বের অন্যতম আধুনিক অ্যাটাক হেলিকপ্টার হিসেবে পরিচিত এবং ভারতীয় বায়ুসেনা ও Army Aviation Corps ইতিমধ্যেই এগুলি ব্যবহার করছে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই প্রতিরক্ষা সহায়তা (US Clears Apache M777 Defence) Indo-Pacific অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। আমেরিকার বক্তব্য, ভারত এই অঞ্চলে একটি “Major Defence Partner” এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো তাদের কৌশলগত লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা এবং Indo-Pacific অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির গুরুত্ব অনেক বেশি। Apache হেলিকপ্টার সীমান্ত এলাকায় দ্রুত আক্রমণ ও নজরদারির ক্ষেত্রে কার্যকর, অন্যদিকে M777 হাউইৎজার উচ্চ পার্বত্য এলাকায় দ্রুত মোতায়েনযোগ্য হওয়ায় সেনাবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
এই ঘোষণার মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্ট হল যে, ভারত ও আমেরিকার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দ্রুত গভীর হচ্ছে। গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া, প্রযুক্তি সহযোগিতা, অস্ত্র কেনাবেচা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে ভারত আরও উন্নত মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও যৌথ উৎপাদনের পথে এগোতে পারে। কারণ বর্তমানে দুই দেশই Indo-Pacific অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার উপর জোর দিচ্ছে।